1 Answers

গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাই উক্ত শাসক অর্থাৎ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের মূল কারণ"- উক্তিটি যথার্থ।

১৯৮২ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছরের প্রায় পুরোটা সময় জনগণ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। বাঙালি জাতি অতীতকাল থেকেই বিপ্লবী জাতি। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য তারা জীবন দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই '৫২, '৬২, '৬৯, '৭১ এ। ৩০ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করার পর এদেশে সামরিক শাসক তারা মেনে নিতে পারেনি। গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তারা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মতো পুনরায় রাজপথে নেমে আসে।

এ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, ২২টি ছাত্র সংগঠন মিলে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্রভৃতি সংগঠন স্বৈরাচার বিরোধী চেতনাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। হরতাল, অবরোধে প্রশাসনে দেখা দেয় স্থবিরতা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হলে আন্দোলন আরো গতি লাভ করে। ১৯৮৭ সালের ১২ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও খালেদাকে গ্রেফতার করা হয়। ২৭ নভেম্বর জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সমাবেশে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। এতে সমগ্র দেশ প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের রূপ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা সম্মিলিতিভাবে কারফিউ ও জরুরি আইন অমান্য করে মিছিল বের করে। ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। অবশেষে এ গণঅভ্যুত্থানের মুখে টিকতে না পেরে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এভাবে অবসান ঘটে এরশাদের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের। পরিশেষে বলা যায়, গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার ফলেই বাংলাদেশে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

 

 

 

4 views

Related Questions