1 Answers

আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকালকে বঙ্গের মুসলমান শাসনের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা হয়- উক্তিটি যথার্থ।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহ বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান। অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজিত বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা আনয়ন করতে আত্মনিয়োগ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি হিন্দু-মুসলিম প্রভৃতি সব ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করেন। রাজ্য শাসনে গতিশীলতার জন্য তিনি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিযুক্ত করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসে।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামলে বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। তিনি কামরূপ কামতা এবং উড়িষ্যা ও ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ জয় করেন। তার সময়েই বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যর আবির্ভাব ঘটে। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার বিকাশে হুসেন শাহের অবদান তাকে অমর করে রেখেছে। তিনি কবি-লেখকদের উৎসাহ দিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে পুরস্কার প্রদান করতেন। তার শাসনামলে বাংলায় অসংখ্য মসজিদ, মন্দির, দুর্গ, স্কুল ও তোরণ স্থাপিত হয়। তার ২৬ বছরের শাসনামলে জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিল্পকলার বিকাশে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ একজন সুশাসক ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন। শাসন ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি যথেষ্ট উদ্যম, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। রাজার জন্য রাজ্য জয়ই শেষ কথা নয়, যুগোপযোগী ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থাও যে অপরিহার্য তা তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ফলে তিনি জাতি ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপন করেন। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকালকে মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা যায়।

5 views

Related Questions