1 Answers

না, আমি মনে করি উদ্দীপকে উক্ত শাসকের অর্থাৎ আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামলের সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে ওঠেনি।

উদ্দীপকে বর্ণিত জাফর সাহেব সব ধর্মের প্রতি সহনশীল ছিলেন। সবাইকে তিনি যোগ্যতানুযায়ী সমান সুযোগ দেন। তিনি সাহিত্যের উন্নতি ও বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। কবি-সাহিত্যিকদের উৎসাহ ও পুরস্কার প্রদান করেন। এসব সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের কর্মকাণ্ডের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।

হুসেন শাহ রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেশকিছু কঠোর পদক্ষেপও নিয়েছিলেন। সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি হাবসিদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সময় প্রায় ১২ হাজার হাবসি প্রাণ হারায়। বাকি হাবসিরা রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়। আলাউদ্দিন হুসেন শাহের পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল দেহরক্ষী পাইক বাহিনীর ক্ষমতার বিনাশ। এ পাইক বাহিনী সব প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মূলে কাজ করতো। হুসেন শাহ পাইকদের দল ভেঙে দেন। তাদের জায়গায় সম্ভ্রান্ত হিন্দু ও মুসলমানদের নিয়ে তিনি একটি রক্ষীদল গঠন করেন। হুসেন শাহ রাজ্যের কল্যাণের লক্ষ্যে রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে হাবসিদের প্রভাবমুক্ত করতে প্রচেষ্টা চালান। এ লক্ষ্যে তিনি রাজধানী পর্যন্ত স্থানান্তর করেন। বঙ্গের সুলতানদের মধ্যে একমাত্র তিনিই পান্ডুয়া বা গৌড় ছাড়া অন্যত্র রাজধানী স্থাপন করেন। আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। তিনি কামরূপ ও কামতা জয়ের পাশাপাশি উড়িষ্যা ও ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশও জয় করেছিলেন। উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের কিছু অংশও তার অধিকারে আসে। হুসেন শাহ আরাকানি দুর্বৃত্তদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন। স্বাধীনচেতা এ নৃপতি দিল্লির সুলতান সিকান্দার লোদির বাংলা আক্রমণও প্রতিহত করেছিলেন। তিনি সফলভাবে বিশাল রাজ্যের নিরাপত্তা বিধান করেছিলেন।

উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে আলাউদ্দিন হুসেন শাহের রাজত্বকালের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

4 views

Related Questions