1 Answers

উদ্দীপকের ২য় অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন ঘটনার উৎস, ধারাক্রম এবং ফলাফলের দিক থেকে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।.
১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর সামরিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল আইয়ুব খান। তিনি পূর্ব বাংলায় তার দমন-নিপীড়ন নীতি অব্যাহত রাখেন। তার এই স্বৈরশাসন বাংলার ছাত্রসমাজের মাঝে অসন্তোষের জন্ম দেয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক কনফারেন্সে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করার পর আইয়ুব খান তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী ও পাকিস্তানের অখণ্ডতার প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যা দেন। পরবর্তী সময়ে 'আগরতলা মামলা' দায়ের করে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে সৃষ্ট ছাত্র আন্দোলন মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়। এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন শহর ও গ্রামে। যা ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চে আইয়ুব খানের শাসনের অবসানের মাধ্যমে এ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাস চাপায় কলেজ পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে 'নিরাপদ সড়ক চাই' আন্দোলন শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে নয়টি দফা নিয়ে আন্দোলন করলে সরকার একপর্যায়ে তাদের দাবি মেনে নেয়। ফলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় এবং আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
উপরের দুটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে প্রতিভাত হয় যে, এ দুটি আন্দোলনের উৎস, ধারাক্রম এবং ফলাফলে কোনো মিল নেই। তাই এ দুটি আন্দোলন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।

4 views

Related Questions