1 Answers
জন গ্যারাং-এর দাবিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে যা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বেগবান করেছে।
পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কুশাসন, শোষণ ও বৈষম্যের হাত থেকে বাঙালিদের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। এ দাবিনামায় তিনি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, সর্বজনীন ভোটাধিকার, পৃথক মুদ্রাব্যবস্থা চালু, কর, শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রদেশগুলোর নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী গঠন প্রভৃতি দাবি উল্লেখ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জন গ্যারাং সুদান সরকারের কাছে স্বায়ত্তশাসন, নিজেদের সংসদ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা দাবি করেন যা বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে গৃহীত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এ প্রস্তাবকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' নামে আখ্যায়িত করেন। ছয় দফা দাবির পক্ষে দ্রুত ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। এ দাবিতে পূর্ব বাংলার জনগণ আন্দোলন শুরু করলে আইয়ুব সরকার তা দমনে জেল-জুলুম, নির্যাতন চালাতে থাকে। সরকার ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিলে এর প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও ছয় দফা দাবি ছিল মূল ইশতেহার। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বরং গণহত্যা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবি বাঙালিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখায়, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভকে ত্বরান্বিত করেছে।