1 Answers
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার দাবির সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি শাসকগোষ্ঠী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে সীমাহীন বৈষম্য প্রদর্শন করে। এসব বৈষম্যের প্রতিকার ও পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকারের লক্ষ্যে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' অঞ্চলের নেতা জনসাধারণকে সরকারের বঞ্চনা ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরে। ঠিক একইভাবে বঙ্গবন্ধুও বাংলার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি পেশ করেছিলেন। এটি ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতর সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা। ছয় দফা দাবিতে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়। এছাড়া প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় কেন্দ্রের হাতে রেখে অন্যান্য ক্ষমতা প্রদেশের হাতে রাখার দাবি তোলা হয়। দুই প্রদেশে দুটি রিজার্ভ ব্যাংকসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু করার কথাও বলা হয়। এছাড়া রাজস্ব ও শুল্ক এবং বৈদেশিক বাণিজ্য প্রদেশের হাতে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ ছয় দফা দাবিতে আরো বলা হয়, নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী তথা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। উদ্দীপকের নেতার দাবিনামায় এ ছয় দফা দাবিরই প্রতিফলন ঘটেছে।