1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে মধ্যযুগের বাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
এমন কোনো মানব সমাজের সন্ধান আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি যেখানে স্তরবিন্যাস বা শ্রেণিবৈষম্য ছিল না। স্তরবিহীন বা বৈষম্যমুক্ত সমাজ অলীক কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যযুগের সমাজ ব্যবস্থায়ও বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। এ সমাজে যেমন সামাজিক বৈষম্য ছিল তেমনি অর্থনৈতিক বৈষম্যও ছিল। অর্থনৈতিক বৈষম্য বলতে বোঝায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উপার্জনের ভিত্তিতে সৃষ্ট বৈষম্য। মধ্যযুগে তিনটি শ্রেণি গড়ে উঠেছিল। তা হলো উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন শ্রেণি। মধ্যযুগে অধিক সম্পদ এবং উচ্চ বংশমর্যাদার লোকেরা উচ্চ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল: মধ্যম আয় এবং নিম্ন শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এর মধ্যে নিম্ন বা তৃতীয় শ্রেণি গড়ে উঠেছিল কৃষক, তাঁতি এবং স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের নিয়ে।
উদ্দীপকে মহিবের মামা সমৃদ্ধশালী ব্যবসায়ী। অন্যদিকে গ্রামে রয়েছে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ যারা দুর্দশা ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে টিকে আছে। উদ্দীপকের মহিবের মামার এই অবস্থান এবং স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যকার পার্থক্য অর্থনৈতিক বৈষম্যকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মধ্যযুগে বাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।