1 Answers
উদ্দীপকের রফিকের কথায় মধ্যযুগের কৃষিপ্রধান বাংলার চিত্র ফুটে উঠেছে।
নদীমাতৃক বাংলার ভূমি চিরদিনই প্রকৃতির আশীর্বাদে পরিপুষ্ট। এখানকার কৃষিজমি খুব উর্বর। মধ্যযুগে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল উৎস ছিল কৃষি। বাংলার মাটিতে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হতো। ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রফিক বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এটি বর্তমান বাংলাদেশে যেমন সত্য, তেমনি মধ্যযুগেও বাংলার অর্থনীতিতে কৃষিই প্রধান ভূমিকা পালন করতো। মধ্যযুগে বাংলায় উৎপাদিত বিভিন্ন ফসলের মধ্যে ধান, গম, তুলা, ইক্ষু, পাট, আদা, সরিষা, ডাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মসলা ও সবজি ধরনের কৃষিজাত দ্রব্যের মধ্যে পিয়াজ, রসুন, হলুদ, শশা প্রভৃতি প্রধান ছিল। বাংলায় পাট ও রেশমের চাষ শুরু হয় মুসলমান শাসনের সময় থেকে। কৃষির এত গুরুত্ব এবং ফলনের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও এ সময়ের চাষাবাদ ব্যবস্থা অনুন্নত ছিল। চাষাবাদের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা ছিল খুব বেশি। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বাংলা বহুকাল ধরেই কৃষিনির্ভর। তাই বলা যায়, রফিকের কথায় মধ্যযুগের কৃষির চিত্রই ফুটে উঠেছে।