1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত দক্ষিণ সুদানে পূর্ব-পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে'।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পূর্ব-পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক ভয়াবহ বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। সেসময় পাকিস্তানের জাতীয় বাজেট ও বৈদেশিক সহায়তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। উদ্দীপকে তারই অনুরূপ চিত্র পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুদানের রাজধানী ছিল উত্তর সুদানের খার্তুমে। তাই সুদানের সামগ্রিক উন্নয়ন উত্তর সুদানকেন্দ্রিক হয়েছে। দক্ষিণ সুদানের উন্নয়নে দাতা দেশগুলো ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দিলেও তার পুরোটাই সরকার খার্তুমের উন্নয়নে ব্যয় করে। দক্ষিণ সুদানের এ অবস্থাটি পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তৎকালীন পাকিস্তানের রাজধানী ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর ছিল সেখানে। এজন্য সেসময় সব ধরনের উন্নয়ন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক। জন্মলগ্ন থেকে পাকিস্তানে তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গৃহীত হয়। প্রথমটিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ১১৩ কোটি ও ৫০০ কোটি রুপি, দ্বিতীয়টিতে ৯৫০ কোটি রুপি ও ১৩৫০ কোটি রুপি এবং তৃতীয়টিতে বাজেটের ৩৬% ও ৬৩%। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত রাজধানী ইসলামাবাদকে গড়ে তুলতে ব্যয় করা হয় ৩০০ কোটি টাকা। আর পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা শহরের জন্য ব্যয় করা হয় মাত্র ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া শিল্প-কারখানা বেশিরভাগই পশ্চিম পাকিস্তানে গড়ে উঠেছিল। পূর্ব- পাকিস্তান থেকে স্বর্ণ ও টাকা পয়সা পশ্চিম পাকিস্তানে বিনা বাধায় নিয়ে যেতে পারলেও পশ্চিম পাকিস্তান' থেকে পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ ছিল।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, আফ্রিকার দক্ষিণ সুদানে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যই প্রতিফলিত হয়েছে।