উদ্দীপকের প্রথমাংশ পূর্ব পাকিস্তানের কোন বৈষম্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)
1 Answers
উদ্দীপকের প্রথমাংশ পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলা প্রশাসনিক বৈষম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব অনুসারে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু মূল লাহোর প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের কথা থাকলেও মুসলিম প্রধান পূর্ব বাংলা পৃথক রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়নি। বরং দীর্ঘ ২৪ বছর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা সকল ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলার প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ছিল সীমাহীন। উদ্দীপকেও এ বৈষম্যের চিত্রই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নিঝুমপুর ও আরবপুরের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী একটি সমিতি গঠন করা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই নিঝুমপুরের লোকজন বঞ্চনার শিকার হতে থাকে। সমিতির অধিকাংশ উচ্চপদে আরবপুরের লোকজন নিয়োগ পায়। যোগ্যদের উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আরবপুরের লোকদের নিয়োগ দেয়া হত। অনুরূপ প্রতিচ্ছবি পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্যের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। পাকিস্তানের প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তারা। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯০০। আরেকটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। ১৯৪৭ সালে করাচিকে রাজধানী করায় সরকারি অফিস- আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপক হারে চাকরি লাভ করে। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সকল উচ্চপদে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। সরকারের সব সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বাঙালিদের পক্ষে সেখানে গিয়ে চাকরি লাভ করা সম্ভব ছিল না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্যের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।