1 Answers

উদ্দীপকের প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত তথ্যের সাথে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিমাদের প্রশাসনিক বৈষম্যের সামঞ্জস্য রয়েছে।
পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি রাজনৈতিক প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তারা। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে ৯৫৪ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিলেন মাত্র ১১৯ জন। প্রশাসনিক নিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে দুই পাকিস্তানের মধ্যে এরকমই চরম বৈষম্য লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নেপালের কাঠমুন্ডু শহরের মেয়র কর্মী নিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজের এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনকে বেশি সুযোগ দেন। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানও এ ধরনের প্রশাসনিক বৈষম্য চালিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২,০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ২৯০০। পশ্চিম পাকিস্তানে রাজধানী ও সরকারের সব দপ্তর থাকায় তাদেরই একচেটিয়া প্রাধান্য ছিল। ১৯৬২ সালে ফরেন সার্ভিসে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ২০.৮%। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি এ ধরনের প্রশাসনিক বৈষম্য বরাবরই লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যে এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত তথ্যের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্যই প্রকাশিত হয়েছে।

6 views

Related Questions