1 Answers
না, আমি মনে করি, দৃশ্যকল্প-২-এ মধ্যযুগের মুসলিম সমাজের সবদিক ফুটে ওঠেনি।
মধ্যযুগে বাংলায় মুসলমান শাসকরা সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। জুমা ও ঈদের নামাজে খুতবা পাঠ করা তাদের বিশেষ দায়িত্ব ছিল। এ সময় মুসলমান সমাজব্যবস্থা উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন এ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। সৈয়দ, উলেমা প্রমুখ শ্রেণি সমাজে যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিল। ধর্মপরায়ণ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের মানুষ শ্রদ্ধা করত। মধ্যযুগে মুসলমান সমাজে নবজাত শিশুর নামকরণকে কেন্দ্র করে এখনকার মতোই 'আকিকা' নামক বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা হতো। এসময় 'খতনা' একটি অতি পরিচিত সামাজিক প্রথা ছিল। বিবাহ ছিল একটি উৎসবমুখর অনুষ্ঠান। মৌলবিরা মুসলমান রীতি অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন করতেন। মুসলিম সমাজে কেউ মৃত্যুবরণ করলে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালনের মাধ্যমে মৃতদেহ সৎকার করা হতো। এ যুগে বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষ সুফি, দরবেশ বা পির-ফকিরদের দেওয়া তাবিজ, কবজ ব্যবহার করতো। অনেকে পিরের দরগায় সন্ধ্যায় আলো জ্বালাত এবং শিরনি প্রদান করতো। এ যুগে অভিজাত মুসলমানরা ছিল ভোজনবিলাসী। তারা মাছ, মাংসের সাধারণ তরকারির পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার খেত। এ সমাজে পুরুষরা পায়জামা, জামা, পাগড়ি, টুপি, লুঙ্গি, আংটি পরতো। মেয়েরা কামিজ, সালোয়ার ও সোনার অলংকার পরতো। এ সমাজে শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা অনেক পিছিয়ে ছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ দেখা যায়, সাথীর বাবা স্বল্পশিক্ষিত হলেও মসজিদের ইমাম হওয়ায় সবাই তাকে শ্রদ্ধা করে। তবে সাথী পড়াশোনা করতে চাইলেও বেশিদূর পড়তে পারেনি। এসএসসি পাসের পরই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। দৃশ্যকল্প-২ এর এ বিষয়গুলো মধ্যযুগের মুসলমান সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এতে সে যুগের মুসলমান সমাজের উপরে বর্ণিত অন্যান্য বিষয় তুলে ধরা হয়নি। আবার সাথীর বিয়েতে ছেলেরা শার্ট-প্যান্ট ও মেয়েরা শাড়ি পরেছে যা মধ্যযুগে মুসলমান সমাজে প্রচলিত ছিল না।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২-এ মধ্যযুগের মুসলমান সমাজের আংশিক চিত্র ফুটে উঠেছে।