1 Answers
উদ্দীপকের রিপন বাংলার মুসলিম সমাজে সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখা অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব হাজী মুহম্মদ মহসীনের প্রতিচ্ছবি। আমি মনে করি, ঊনবিংশ শতকে বাংলায় শিক্ষা বিস্তারে হাজী মুহম্মদ মহসীনের ব্যাপক অবদান ছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত রিপন তার নিঃসন্তান চাচার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া শেখেন। মৃত্যুর আগে ধনাঢ্য চাচা তার বিশাল সম্পত্তি রিপনকে দান করেন। রিপন নিজে ভোগ না করে সব সম্পত্তি দরিদ্র মুসলমান ছাত্রদের শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ব্যয় করেন। হাজী মুহম্মদ মহসীনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ চিত্র লক্ষণীয়।
হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন। আরবি, ফারসি, উর্দু, ইংরেজি, ইতিহাস ও গণিতে তার অগাধ পাণ্ডিত্য
ছিল। ১৮০৩ সালে মহসীনের একমাত্র নিঃসন্তান বোনের মৃত্যু হলে তিনি তার বিশাল সম্পত্তির মালিক হন। তবে হাজী মুহাম্মদ মহসীন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমুদয় অর্থসম্পদ দরিদ্র মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন। মহসীন হুগলীতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর ইত্যাদি স্থানের মাদ্রাসার উন্নতির জন্য তিনি প্রচুর অর্থ দান করেন। মৃত্যুর ছয় বছর আগে ১৮০৬ সালে তিনি একটি ফান্ড গঠন করেন। ঐ তহবিলের অর্থে ১৮৩৬ সালে হুগলীতে দাতব্য চিকিৎসালয় এবং ১৮৪৮ সালে ইমামবাড়া প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া হুগলি, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠিত হয়। মহসীন ফান্ডের বৃত্তির অর্থে হাজার হাজার মুসলমান তরুণ উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। এভাবে তিনি বাঙালি মুসলমানদের জন্য শিক্ষার পথ সুগম করে যান।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, বাংলার মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারে মহান ব্যক্তি হাজী মুহম্মদ মহসীনের অবদান অতুলনীয়।