1 Answers
উক্ত সময়ে অর্থাৎ প্রাচীন বাংলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েদের তেমন কোনো অধিকার ছিল না বলেই আমি মনে করি।
উদ্দীপকে প্রাচীন বাংলার সমাজব্যবস্থা বর্ণিত হয়েছে। এ সময়ে বাংলার হিন্দু সমাজে নারীদের তেমন কোনো অধিকার ছিল না। স্বামী স্ত্রীকে তার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করত। কন্যা মা-বাবার ওপর, স্ত্রী স্বামীর ওপর, বিধবারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল 'ছিল।
প্রাচীন বাংলার হিন্দু সমাজে এখনকার মতো একজন স্ত্রী গ্রহণই সাধারণ নিয়ম হলেও পুরুষদের মধ্যে বহুবিবাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। বৈধব্য নারী জীবনের চরম অভিশাপ বলে বিবেচিত হতো। স্বামীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীর কপালের সিঁদুর মুছে যেত। অন্য সব প্রসাধন এবং অলঙ্কারও ত্যাগ করতে হতো। বিধবাকে সব ধরনের বিলাস বর্জন করে নিরামিষ আহারসহ কৃষ্ণ সাধন করতে হতো। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকেও সাধারণত মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো। অমানবিক এ প্রথাকে বলা হতো 'সতীদাহ প্রথা'। সহমরণে যেতে ইচ্ছুক না হলেও মেয়েদের জোর করে স্বামীর চিতায় তোলা হতো। প্রাচীন বাংলায় ধন-সম্পত্তিতে নারীদের কোনো আইনগত অধিকার ছিল না। তবে বিধবা স্ত্রী ছেলে সন্তান না থাকলে মৃত স্বামীর সম্পত্তির অধিকার দাবি করতে পারতো।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় যে, প্রাচীন বাংলার হিন্দু সমাজে নারীরা শিক্ষাগ্রহণের কিছু সুযোগ পেলেও কার্যত সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।