1 Answers
না, দৃশ্যকল্প-২-এ প্রাচীন বাংলার সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক অবস্থা প্রকাশ পায়নি। এখানে শুধুমাত্র অর্থনীতির শিল্প খাতটি প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়াও প্রাচীন বাংলার আরো অনেক অর্থনৈতিক খাত ছিল।
প্রাচীনকাল হতেই বাংলা কৃষির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। বস্তুত এদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে কৃষির ওপর নির্ভর করে। ধান ছিল বাংলার প্রধান ফসল। এছাড়া পাঠ, ইক্ষু, তুলা, সর্ষে ও পান চাষের জন্য বাংলার খ্যাতি ছিল। ফলবান বৃক্ষের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, নারকেল, সুপারি, ডালিম, কলা, লেবু, ডুমুর, খেজুর ইত্যাদি। কুটির শিল্পেও প্রাচীন বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। গ্রামের লোকদের দরকারি সবকিছু গ্রামেই তৈরি হতো। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল কলস, ঘটি-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, বাসনপত্র ইত্যাদি। লোহার তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল দা, কুড়াল, কোদাল, খন্তা, খুরপি, লাঙল ইত্যাদি।
শিল্পের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বাণিজ্যও যথেষ্ট প্রসার লাভ করেছিল। স্থল ও জল উভয় পথেই বাণিজ্যের আদান-প্রদান চলত। দেশের ভেতরে বাণিজ্য ছাড়া সে সময়ে বাংলা বৈদেশিক বাণিজ্যে বিশেষ উন্নত ছিল। স্থল ও জলপথে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার পণ্য বিনিময় চলত। এ কারণে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় নগর ও বাণিজ্য বন্দর গড়ে উঠেছিল। পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন বাংলায় শিল্পের পাশাপাশি কৃষি, কুটির শিল্প ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।