1 Answers
উক্ত যুগে অর্থাৎ মধ্যযুগে হিন্দু নারীদের তেমন কোনো অধিকার ছিল না। তথাপি অনেক নারী নিজ যোগ্যতায় নিজেদেরকে বিকশিত করতে সক্ষম হয়েছিল।\
মধ্যযুগে বাংলার হিন্দু সমাজে নারীদের তেমন কোনো অধিকার ছিল না। স্বামী-স্ত্রীকে তার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করত। কন্যা মাতা-পিতার ওপর, স্ত্রী স্বামীর ওপর, বিধবারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। গৃহকর্তার অনুমতি ছাড়া মেয়েরা গৃহের বাহিরে যেতে পারত না।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পত্তির ওপর স্ত্রীদের কোনো অধিকার ছিল না। সমাজে সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। তবে, বাংলায় সর্বত্র এ প্রথা বাধ্যতামূলক সামাজিক রীতি ছিল না। এ যুগে নারীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রচলন ছিল না। তথাপি অনেক নারী নিজ যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিজেদের স্বাধীন সত্তাকে বিকশিত করতে সমর্থ হয়েছিল। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও এ যুগের নারীদের কৃতিত্ব কম ছিল না। বিত্তশালী পরিবারে নিয়মিত শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা হতো। বীনা, তানপুরা ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রে এ যুগের মহিলারা পারদর্শী ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, মধ্যযুগের হিন্দু সমাজে নারীর কোনো সামাজিক অর্থনৈতিক, আইনগত অধিকার স্বীকৃত ছিল না।