1 Answers
মধ্যযুগে বাংলায় প্রচুর পরিমাণে কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদিত হতো। ফলে বাংলায় বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি হতো।
মধ্যযুগে বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের সিংহভাগই ছিল রপ্তানি নির্ভর। বাংলার কৃষি ও শিল্পপণ্যের প্রাচুর্য এবং বিদেশে এগুলোর ব্যাপক চাহিদার ফলে মুসলমান শাসন আমলে বিদেশের সাথে বাংলার বাণিজ্যিক তৎপরতা অভূতপূর্ব প্রসার লাভ করেছিল। এ যুগে বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানকার উৎপন্ন বস্ত্রের গুণ ও মান যথেষ্ট উন্নত হওয়ায় বিদেশে এগুলোর প্রচুর চাহিদা ছিল। ইউরোপের বাজারে বাংলার মসলিন কাপড়ের চাহিদা ছিল ব্যাপক। এছাড়াও বঙ্গের পাট ও রেশমের তৈরি বস্ত্র পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। বাংলার চিনি ও গুড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো।
কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে চাল, তামাক, সুপারি, পাট, আদা, লঙ্কা, আম, কাঁঠাল, পান, নারকেল ইত্যাদি রপ্তানি হতো। বিভিন্ন কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্য ছাড়াও বাংলা হতে লবণ, গালা, আফিম, নানা প্রকার মসলা, ঔষধ ইত্যাদি বাংলা থেকে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। উপরের আলোচনা শেষে এ কথা বলা যৌক্তিক যে, মধ্যযুগে বাংলার পণ্য আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি হতো।