1 Answers

স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী তথা রাজাকারের তৎপরতা ছাড়া পাকিস্তানি শাসকদের যুদ্ধকালীন দমন নীতি সহজ হতো না- মন্তব্যটি যথার্থ।

পাকিস্তান সরকার তাদের স্বার্থে রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলেছিল। ১৯৭১ সালের জুন মাসে লে. জেনারেল টিক্কা খান 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স' জারি করেন। দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হিসেবে এদেশীয় কিছু দালাল চক্র পাকিস্তানি বাহিনীকে অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। এমনকি সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী হত্যা, লুঠ, ধর্ষণ প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধকর্ম সংঘটিত করেছে। তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা যোদ্ধাদের ঘাঁটি ও মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি, সম্পত্তির সন্ধান দিত। অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যায় এই সংগঠন দখলদার বাহিনীর বিশ্বস্ত সহচর ছিল।

উদ্দীপকে কিছু সুযোগসন্ধানী ও স্বার্থান্বেষী ইরাকি মার্কিনীদের সাথে হাত মিলিয়ে স্বয়ং ইরাকের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ সব বিশ্বাসঘাতকের সহায়তাকে পুঁজি করে মার্কিনীরা ইরাকে তাদের অভিযান জোরদার করে। অনুরূপভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতার ফলে পাকিস্তানি শাসকেরা তাদের দমন-পীড়ন, নির্যাতনে সফল হয়েছিল।
আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতা না পেলে পাকিস্তানি শাসকদের পক্ষে যুদ্ধকালীন দমন নীতি সহজ হতো না।

5 views

Related Questions