1 Answers
উক্ত রাজার পরবর্তী রাজাকে অর্থাৎ গোপালের পরবর্তী রাজা ধর্মপালকে প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকদের অন্যতম মনে করা হয়- উক্তিটি যথার্থ।
ধর্মপাল ছিলেন প্রাচীন বাংলার শ্রেষ্ঠ শাসকদের অন্যতম। ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল মৃত্যুবরণ করলে ধর্মপাল পাল রাজবংশের সিংহাসনে আরোহণ করেন। যে দেশ একসময় অরাজকতার লীলাভূমি ছিল, গোপালের হাতে তাতে স্থিতিশীলতা আসে। আর ধর্মপালের নেতৃত্বে কালক্রমে সেই বাংলাই প্রবল শক্তিশালী হয়ে উত্তর ভারত পর্যন্ত প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত গোপালের পরবর্তী রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল ছিল বাংলার ইতিহাসে অত্যন্ত গৌরবময়। ধর্মপালের শাসন বাংলা ও বিহারব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর বাইরে ধর্মপাল উত্তর ভারতেরও বেশকিছু অঞ্চল জয় করেছিলেন। তিনি বারাণসী ও প্রয়াগ জয় করে গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। কেউ কেউ মনে করেন, ধর্মপাল নেপালও জয় করেছিলেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই 'পরমেশ্বর', 'পরমভট্টারক' 'মহারাজাধিরাজ' ইত্যাদি সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি ধারণ করেছিলেন। ধর্মপালের নির্মিত বিহারগুলো ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। তার প্রতিষ্ঠিত বিক্রমশীল বিহার ভারতবর্ষের সর্বত্র ও এমনকী বাইরেও খ্যাতি লাভ করেছিল। এটি নবম শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত ভারতবর্ষের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমান বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরেও তিনি এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন, যেটি সোমপুর বিহার নামে পরিচিত। এ প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনটি জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এছাড়া ধর্মপাল অত্যন্ত প্রজাহিতৈষী রাজা ছিলেন।
নিজে বৌদ্ধ হলেও অন্য ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে সেদিকে তিনি লক্ষ রাখতেন।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজা ধর্মপাল প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকদের অন্যতম।