1 Answers
পর্যটকদের পরবর্তীতে ঘুরে দেখা অঞ্চলগুলো প্রাচীনকালে পুণ্ড জনপদের অংশ ছিল। এটি ছিল প্রাচীন বাংলার সব থেকে সমৃদ্ধ জনপদ- উক্তিটির সাথে আমি একমত।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড্র অন্যতম। পুণ্ড নামে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে পুণ্ড জাতির উল্লেখ আছে। পুণ্ডদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুন্ড্রনগর। পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড রাজ্য স্বাধীন সত্তা হারায়। সমৃদ্ধি বাড়ার সাথে সাথে পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে তা পুণ্ড্রবর্ধনে রূপান্তরিত হয়। সে সময় পুণ্ড্রবর্ধন বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পন্ডিতেরা ধারণা করে থাকেন।
সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুণ্ড্রনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল।
উদ্দীপকের পর্যটকগণ পরবর্তীতে দিনাজপুর ও বগুড়া অঞ্চল ভ্রমণে যান যা প্রাচীনকালে পুণ্ড জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিশেষে বলা যায়, পুণ্ড জনপদ ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।