1 Answers
উক্ত জনপদ অর্থাৎ প্রাচীন গৌড় জনপদ থেকে প্রাচীন বাংলা সম্পর্কে অনেকগুলো তথ্য পাওয়া যায়।
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র গ্রন্থ হতে জানা যায়, প্রাচীন গৌড় জনপদে অনেক শিল্প ও কৃষিজাত দ্রব্য উৎপন্ন হতো। এখানকার কৃষিজাত দ্রব্যগুলোর মধ্যে ছিল ধান, পাট, তামাক, আখ, যব, তিল, সরিষা ইত্যাদি। আর ফলের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, কলা, লেবু ইত্যাদি। এছাড়াও প্রাচীন এ জনপদে কুটির -শিল্পের ব্যাপক বিকাশ সাধিত হয়। এখানকার কুটির শিল্পগুলোর মধ্যে দা, হাতুড়ি, কুড়াল, চিনি, লবণ ইত্যাদি ছিল অন্যতম। বাৎসায়নের গ্রন্থে তৃতীয় ও চতুর্থ শতকে গৌড়ের নাগরিকদের বিলাস ব্যসনের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রাচীন গৌড় জনপদের শিল্প ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির ফলে জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। সপ্তম শতকে গৌড়রাজ শশাংকের রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণে। পাল রাজাদের সময় গৌড়ের নামডাক ছিল সবচেয়ে বেশি। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তখন গৌড়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমানের কিছু অংশ গৌড়ের সীমা বলে মনে করা হয়। মুসলমান যুগের শুরুতে মালদহ জেলার লক্ষণাবতী গৌড় নামে অভিহিত হতো।
পরিশেষে বলা যায়, গৌড় জনপদের এসব তথ্যের সাহায্যে প্রাচীন বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।