1 Answers

জাতিবর্ণ প্রথার কঠোরতার জন্য প্রাচীন বাংলায় যুবশ্রেণির কৃষিক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা কম ছিল বলে আমি মনে করি।

বাংলা চিরকালই কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির উপরই এ দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে। কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় বাংলার অধিকাংশ মানুষই গ্রামে বাস করে আর গ্রামের আশপাশের ভূমি চাষ করে সংসার চালায়। প্রাচীন বাংলায় ধর্মীয় গোঁড়ামি তথা জাতিবর্ণ প্রথার কঠোরতা বিদ্যমান ছিল। বংশ মর্যাদা অনুযায়ী তারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিল। ইচ্ছা করলেই তারা নির্ধারিত পেশার বাইরে অন্য পেশা গ্রহণ করতে পারত না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সবচেয়ে নিচু শ্রেণিতে অবস্থিত শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করতো। তখনকার সমাজে কৃষি কাজকে সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণির পেশা মনে করা হতো। এ কারণে কোনো ব্রাহ্মণ সন্তান ইচ্ছা করলেই কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারত না। কিন্তু বর্তমান সমাজে এ ধরনের গোঁড়ামি ও কুসংস্কার প্রচলিত না থাকায় অনেক শিক্ষিত ও প্রতিভাবান যুবক মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে যেমন বেকারত্ব দূর করছে তেমনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

পরিশেষে বলা যায়, জাতিবর্ণ প্রথার কঠোরতা এবং সামাজিক বিধি-নিষেধের কারণে প্রাচীনকালের যুব সমাজ কৃষিকাজের সাথে কম সম্পৃক্ত ছিল।

5 views

Related Questions