1 Answers

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান শিক্ষা ও প্রযুক্তি শুধুমাত্র দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা হলো এক ধরনের সংস্কার সাধন এবং বিরামহীন প্রক্রিয়া। সমাজের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার আত্মবিশ্বাস ও বিচার বিবেচনার ক্ষমতা জাগ্রত করে। শিক্ষা যাবতীয় অন্ধত্ব, কুসংস্কার প্রভৃতি থেকে মুক্তি দেয়। যেমন- বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে যা তাদেরকে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সৃষ্টি হয়েছে বহু সামাজিক নীতি ও আইন। যৌতুক আইন, পারিবারিক আইন, নারী উন্নয়ন নীতি প্রভৃতি সামাজিক সচেতনতার ফসল। নারী শিক্ষা নারীকে কর্মমুখী করেছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। এভাবে বিজ্ঞান শিক্ষা বাণিজ্য শিক্ষা প্রভৃতি সমাজে পরিবর্তন এনেছে। আর প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। প্রযুক্তির প্রচলন ও প্রসারের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গের মানসিক গঠন এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন- বেতারের আবিষ্কার সামাজিক জীবনে আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি এবং অন্যান্য আরও বহু ধরনের সামাজিক কাজকে প্রভাবিত করেছে। মোটর গাড়ি আজ সামাজিক সম্পর্কের পরিধিকে বিস্তৃত করেছে। তাই বলা যায়, প্রযুক্তির ক্রমোন্নতিতে আমাদের সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

4 views

Related Questions