1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি, তথ্য চিত্র-২-এ উল্লেখিত দ্রব্য বিনিময়, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং কড়ি-মুদ্রার প্রচলনের ফলে বাংলার ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্যের প্রসার ঘটেছিল।
প্রাচীন বাংলায় কৃষি ও শিল্পদ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। আবার ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এসব দ্রব্যের খুব চাহিদা ছিল। তাই প্রাচীনকালে বাংলার সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য চালু ছিল। বাংলা থেকে সুতি ও রেশমি কাপড়, চিনি, গুড়, লবণ, তেজপাতা ও অন্যান্য মসলা, চাল, নারকেল, সুপারি, ঔষধ তৈরির গাছপালা, মুক্তা ও মূল্যবান পাথর ইত্যাদি রপ্তানি হতো। এতে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটে। এ সময় শিল্পের উন্নতির সাথে সাথে বাংলার ব্যবসা- বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। স্থল ও জলপথে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার পণ্য বিনিময় চলত। এ কারণে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় নগর ও বাণিজ্য বন্দর গড়ে উঠেছিল। এগুলোর মধ্যে নব্যাবশিকা, কোটীবর্ষ, পুণ্ড্রবর্ধন, তাম্রলিপ্ত, কর্ণসুবর্ণ, সপ্তগ্রাম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সমুদ্রপথে সিংহল, ব্রহ্মদেশ, চম্পা, কম্বোজ, মালয়, সুমাত্রা, চীন প্রভৃতি দেশের সাথে বাংলার পণ্য বিনিময় চলত। স্থলপথে চীন, নেপাল, ভুটান ও মধ্য এশিয়ার সাথে বাংলার বাণিজ্য চালু ছিল। পণ্য বিনিময়ের পাশাপাশি এ সময় কড়িসহ বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা ব্যবস্থাও চালু ছিল। এতে বাংলার মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারত। এভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, পণ্য বিনিময় এবং মুদ্রার প্রচলন বাংলাকে ঐশ্বর্যশালী করেছিল।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, তথ্য চিত্র-২-এ উল্লেখিত বিষয়াবলি অর্থাৎ- বিভিন্ন দেশের সাথে পণ্য বিনিময়, বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার এবং মুদ্রার প্রচলনের ফলে বাংলার ধন সম্পদ ও ঐশ্বর্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল।