1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনাটি তথা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তদানীন্তন বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বেশকিছু পরিবর্তন এসেছিল। এ ব্যবস্থায় জমিদারদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। ফলে তারা ধীরে ধীরে ধনিক শ্রেণিতে পরিণত হয়। জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা স্বীকৃত হওয়ায় জমিদারদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় নানা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্রতী হয়। তারা জঙ্গলাকীর্ণ জমি চাষের ব্যবস্থা করে। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়। এই জমিদার শ্রেণির পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে গ্রামীণ সমাজে শিক্ষিত শ্রেণি তৈরি হয়। এরা পরবর্তী সময়ে দেশ ও জাতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। এভাবেই উপমহাদেশে জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিতে প্রজাদের পুরোনো স্বত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়। ফলে জমিদাররা ইচ্ছে করলেই যেকোনো সময় তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারতো। প্রথম দিকে প্রজাস্বত্ব আইন না থাকায় তাদের ভাগ্যের জন্য সম্পূর্ণভাবে জমিদারের দয়ার ওপর নির্ভর করতেহতো। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমির সীমা নির্ধারিত না থাকায় পরবর্তীকালে মামলা-বিবাদও দেখা দিত। সূর্যাস্ত আইনে নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের মধ্যে খাজনা পরিশোধের কঠোর বিধানের কারণে অনেক বড় জমিদারি বিলুপ্ত হয়ে যায়। আবার জমিদাররা নায়েব-গোমস্তার ওপর দায়িত্ব দিয়ে শহরে বসবাস শুরু করলে তাদের অত্যাচারে প্রজারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ফলে জমির উৎপাদন কমে যেতে থাকে। গ্রামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও খারাপ হতে থাকে। ফলে দেশীয় পুঁজি ও শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাবে বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়।