1 Answers

অনুচ্ছেদে বর্ণিত মনীষীর জীবনদর্শন পশ্চিমা সমাজে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। তার বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি অজানা অচেনা লোকদের আপন করে নেন। এতে সবাই বিস্মিত হয়। তার বক্তৃতায় তিনি বলেন- হিন্দুধর্ম পৃথিবীর সকল ধর্মকে সমান সত্য মনে করে। সবার লক্ষ্য এক ঈশ্বর লাভ। তাঁর বক্তৃতায় সবাই মুগ্ধ হয়ে তাঁকে শ্রেষ্ঠ বক্তা উপাধি দেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমন্ত্রণ আসে বক্তৃতার। তিনিও হিন্দু ধর্মদর্শন, বিশেষত বেদান্ত দর্শন ও মানবধর্ম সম্পর্কে একের পর এক বক্তৃতা দিয়ে আমেরিকা জয় করেন। সেখানকার পত্রিকাগুলো তাঁকে সাইক্লেনিক হিন্দু নামে অভিহিত করে। বিবেকানন্দ তাঁর মতামত প্রচারের জন্য নিউইয়র্কে বেদান্ত সমিতি নামে একটি সংগঠন স্থাপন করেন। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি প্রভৃতি দেশে একের পর এক বক্তৃতা দেন। বেদান্ত দর্শনের প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন। বেদান্তের মূলকথা হলো- জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি এ সত্যও প্রতিষ্ঠা করেন যে, হিন্দুধর্ম কেবল মূর্তির পূজা করে না। সকল দেবতার পূজার মধ্য দিয়ে এক ঈশ্বরের আরাধনা করে। তার বক্তৃতা থেকে পাশ্চাত্যের মানুষ নতুন করে হিন্দুধর্ম ও দর্শন সম্পর্কে জানতে পারে। অনেকে তাঁর পরম ভক্ত হয়ে যায়। তার মধ্যে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বিবেকানন্দের আদর্শে এতটাই উদ্বুদ্ধ হন যে, নিজের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ড ছেড়ে ভারতবর্ষে চলে আসেন এবং বিবেকানন্দের কাছে দীক্ষা নেন। তখন তাঁর নাম রাখা হয় ভাগিনী নিবেদিতা। এভাবে স্বামী বিবেকানন্দ পশ্চিমা সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।

4 views

Related Questions