1 Answers

সমাজসেবক মনসুর আলীর বক্তব্য সমাজে ভেদাভেদ দূরীকরণে সম্পূর্ণরূপে সহায়ক বলে আমি মনে করি।
সাম্য বলতে এমন এক সামাজিক পরিবেশকে বোঝায়, যেখানে জাতি- ধর্ম-বর্ণ ইত্যাদি নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। সেখানে কারো জন্য কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকে না। সমান সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে প্রত্যেকেই নিজ নিজ দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারে। সাম্য বলতে বোঝায় প্রথমত, কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অবসান; দ্বিতীয়ত, সকলের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা, তৃতীয়ত, যোগ্যতা অনুযায়ী সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা; তাই সমাজে ভেদাভেদ দূরীকরণে সাম্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাম্যের মাধ্যমে সভ্য সমাজ গড়ে তোলা হয়। শ্রেণিবিভেদহীন গণতান্ত্রিক সমাজ সাম্যের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। সাম্য ব্যক্তিস্বাধীনতার পূর্বশর্ত। সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা ভোগ করা অসম্ভব। কারণ মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকলে সবল ব্যক্তিরা দুর্বলদের ওপর হস্তক্ষেপ করে। মানুষে মানুষে ব্যবধান সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, সাম্য ব্যক্তিস্বাধীনতার পথকে উন্মুক্ত করে এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে। সাম্যভিত্তিক অবস্থায় স্বাধীনতা পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই প্রতিটি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সাম্যের উপস্থিতি আবশ্যক। কেননা সাম্যের উপস্থিতিই পারে সামাজিক ভেদাভেদ দূর করে সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। আর সাম্যের উদ্দেশ্য হলো এই ভেদাভেদ দূর করা। আর এ কারণেই সামাজিক ভেদাভেদ দূরীকরণে সাম্য সম্পূর্ণরূপে সহায়ক বলে আমি মনে করি।

6 views

Related Questions