1 Answers
উদ্দীপকে ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। হ্যাঁ, আমি মনে করি এ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও বুঝতে পারে তারা কতটা হুমকির মুখে রয়েছে। কারণ সেসময় এ প্রদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। এর ফলে বাঙালিরা নিজেদের প্রতিরক্ষার বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠে, যা তাদের মাঝে জাতীয়তাবাদী চেতনার সৃষ্টি করে। যার প্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপলাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য ৬ দফা তুলে ধরেন। ৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। আইয়ুব সরকার একে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনার মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। পাকিস্তান সরকার এটি গ্রহণ না করে দমনপীড়ন শুরু করলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।