1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি অর্পিতার দেখা পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ ইতিহাসের লিখিত উপাদান থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।
ইতিহাসের দুই ধরনের উপাদানের মধ্যে অন্যতম হলো লিখিত উপাদান। সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্রসহ বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের অর্পিতা তার বাবার সাথে বেড়াতে গিয়ে রংপুরের তাজহাট জমিদারদের সংস্কৃত ও আরবি ভাষায় লেখা পাণ্ডুলিপি দেখতে পায়, যা ইতিহাসের লিখিত উপাদান। আর লিখিত উপাদানের মাধ্যমে ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা যায়। কেননা, লিখিত উপাদানগুলোতে প্রাচীন সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিকসহ প্রায় সব বিষয়ের সুস্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা দেওয়া থাকে যা ইতিহাসের অলিখিত উপাদানে থাকে না। যেমন- মধ্যযুগের ইতিহাস রচনায় সে সময়ের অলিখিত উপাদানগুলো তথা স্থাপত্যকর্ম, শিলালিপি প্রভৃতি যতটা না সাহায্য করে তার চেয়ে সে সময়ের ইতিহাসবিদদের রচনা, পরিব্রাজকদের বর্ণনা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আত্মজীবনী অনেক বেশি সহায়ক হয়। তাছাড়া কেবল লিখিত উপাদানের মাধ্যমেই সেই সময়ের মানুষের চিন্তাধারা ও জীবন-জীবিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জানা যায়। এজন্য লিখিত উপাদানকে ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের অর্পিতার দেখা পান্ডুলিপি ইতিহাসের লিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। আর লিখিত উপাদানে যেকোনো সময়ের সব বিষয়ের বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা থাকে বলে এটি থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।