তুমি কি মনে কর কমল বাবুর কর্মকান্ডের মাধ্যমে ঈশ্বর লাভ করা সম্ভব? পক্ষে যুক্তি দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি কমল বাবুর সন্ন্যাস অবলম্বনের মাধ্যমে ঈশ্বর লাভ সম্ভব।
আশ্রম জীবনে চতুর্থ পর্যায়ে আসে সন্ন্যাসের কথা। এ সময় পঁচাত্তর থেকে একশ বছরের মধ্যে জীবনধারণের শাস্ত্রীয় নির্দেশ আছে। সন্ন্যাস গ্রহণ করলেই মানুষ দেবতা হয়ে যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, কমল বাবু তার শেষ জীবনে সন্ন্যাস জীবনে প্রবেশ করেছেন। সংসারের সকল মায়া ত্যাগ করে নির্জনে বসবাস করেন এবং মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বেড়ান। সবসময় ঈশ্বর সাধনায় মগ্ন থাকেন তিনি। তার এ কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি সন্ন্যাস জীবনের মূল উদ্দেশ্য পালন করেছেন। সন্ন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে-
"অনাশ্রিত: কর্মফলং কার্যং কর্ম করোতি যঃ।
স সন্ন্যাসী চ যোগী চ ন নিরগ্নির্ন চাক্রিয়ঃ ॥"
অর্থাৎ কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্যকর্ম করেন, তিনিই সন্ন্যাসী, তিনিই যোগী। শুধুমাত্র গৃহাদি কর্ম বা শরীর ধারণের উপকরণ সংগ্রহে কর্মত্যাগই সন্ন্যাস নয়। কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে ঈশ্বর সাধনায় নিমগ্ন থাকলে ঈশ্বর লাভ করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। তাই বলা যায়, কমল বাবুর অনুরূপ কর্মকান্ডের দ্বারা সন্ন্যাস জীবনযাপনের মাধ্যমে নিঃসন্দেহে ঈশ্বর লাভ করা সম্ভব।