1 Answers
হ্যাঁ, সুভাষ বাবুর অনুসরণকৃত পদ্ধতি বা নিরাকার উপাসনার মাধ্যমে মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব।
প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির হৃদয় ঈশ্বরের অনুকম্পা লাভের জন্য উন্মুখ থাকে। সে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে। হিন্দুধর্ম অনুসারে ইশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করাই হলো পরম তৃপ্তি ও মুক্তির পথ। উপাসনাই এ পথকে মসৃণ করে। উদ্দীপকের সুভাষ বাবু নিরাকার উপাসক। পূজার্চনা কিংবা দেব-দেবীর দর্শন না করলেও তিনি প্রত্যহ ঊষাকালে ও সন্ধ্যায় নীরবে বসে নিষ্কামভাবে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন। তার এ নিরাকার উপাসনাই তাকে মোক্ষপ্রাপ্তিতে সাহায্য করবে। 'মোক্ষ' অর্থ চিরমুক্তি। দেহান্তরের মধ্য দিয়ে জীবাত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে যায়। কিন্তু পুণ্যবলে এক সময় আর দেহান্তর হয় না। তখন জীবাত্মাকে আর অন্যদেহে যেতে হয় না। জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায়। তখন আর পুনর্জন্ম হয় না। একে বলে মোক্ষরা মোক্ষলাভ। উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভ, শেষে মোক্ষলাভ। হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ নিরাকার, কেউবা সাকার উপাসনার মাধ্যমে ঈশ্বরকে পূজা বা আরাধনা করেন। এ সম্পর্কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদভগবদ্গীতায় উল্লেখ করেছেন-
যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম
মম বর্তানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ। (গীতা ৪/১১)
অর্থাৎ যারা যেভাবে আমাকে ভজনা করে তাদের সেভাবেই আমি - কৃপা করে থাকি। মনুষ্যগণ সর্বপ্রকারে আমার পথই অনুসরণ করে। দেবদেবীগণ একই ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপ। তাই হিন্দুধর্মে একের মধ্যে বহুর সমাবেশ বা বহুর মধ্যে একের অভিব্যক্তি ঘটেছে। তাই বলা যায়, সুভাষ বাবুর অনুসরণকৃত পদ্ধতি বা নিরাকার উপাসনার মাধ্যমে মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব।