1 Answers
হ্যাঁ, উদ্দীপকে আহসান সাহেবের প্রস্তাবিত আইনটির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রে আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সকল নাগরিক সমানভাবে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে এবং সকলের অধিকার রক্ষিত হতে পারে। আইনের অনুশাসন সমাজে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে। আইনের প্রাধান্য স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। আর ব্যক্তির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে সেখানে সুশাসন প্রত্যয়টি প্রহসনে পরিণত হয়। অতএব, আইন সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। উদ্দীপকে ঘটনা-২ এ দেখা যায় যে, জনাব আহসান জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দেশের আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেন এবং উক্ত আইনটি পরবর্তীতে পাস হয়। তার আনীত আইনটি নাগরিকের চিন্তা ও বাকস্বাধীনতার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত হয়েছে। চিন্তা ও বাকস্বাধীনতা বাংলাদেশে একটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। উক্ত আইনটির মাধ্যমে সাংবিধানিক অধিকারটির রক্ষাকবচস্বরূপ আরও একটি আইনি ভিত্তি রচিত হয়েছে। ফলে নাগরিকদের চিন্তা ও বাকস্বাধীনতার পথ আরও অধিক সুগম হয়েছে যা রাষ্ট্রে শাসকদের যৌক্তিক সমালোচনার দ্বার উন্মুক্ত করবে। ফলে সমালোচনার ভয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেমন সংযত হবে, তেমনিভাবে মুক্তবুদ্ধির চর্চাও সমানভাবে এগিয়ে চলবে। এভাবে ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের চিন্তা ও বাকস্বাধীনতা তথা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করার মাধ্যমে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। আর তাই আহসান সাহেবের প্রস্তাবিত আইনটির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।