1 Answers
না, শুধু কিশোর সংশোধনাগারে পাঠালেই কাব্যের মতো কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। এর জন্য দরকার সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের সুস্পষ্ট প্রয়োগ।
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুরা জাতির মূল্যবান সম্পদ। সুতরাং, তাদের উন্নয়নের জন্য এবং সমসুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে। কর্মক্ষম ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং সমাজের প্রয়োজনে উপযুক্ত কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারে। শিশু এবং কিশোররা যাতে পরিবারে বা সমাজে বঞ্চিত ও অবহেলিত না হয়, একাকিত্বে না ভোগে, বাবা-মার দায়িত্বহীন আচরণে প্রভাবিত হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না থাকে, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। কেননা এসব কারণেই মূলত কিশোর অপরাধ সংঘটিত হয়। সুষ্ঠু পারিবারিক পরিবেশ, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষাদানের মাধ্যমেও শিশু- কিশোরদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখা সম্ভব। আর এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। অন্যদিকে কিশোর অপরাধ বিচার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কিশোরদের ভুলগুলো উপলব্ধি করানো এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। তাই এই আইনি ব্যবস্থার সুষ্ঠু প্রয়োগের ব্যাপার সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট থাকতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, কিশোর অপরাধ কোনোভাবেই কাম্য নয়, আর তা কমানো সম্ভব সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে।
তাই বলা যায়, কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর সাথে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতাই কিশোর অপরাধ নিরসনে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।