1 Answers
ধীরেন্দ্র বাবুর মৃত্যুর পর তার ছেলেরা সবদিক থেকে হতবাক হয়ে যায়। তারপর গ্রামবাসীর সহায়তায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে শ্রাদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা গ্রামবাসীর কাছে জানতে পারে যার যেমন সামর্থ্য সে অনুযায়ী শ্রাদ্ধ পালন করতে হবে। শ্রদ্ধা শব্দের সাথে 'অন' প্রত্যয়যোগে শ্রাদ্ধ শব্দটি গঠিত। তাই শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। শাস্ত্রমতে, অশৌচ পালন করে শরীরকে শ্রাদ্ধের জন্য উপযোগী করে তুলতে হয়। এ সময় মাছ, মাংস, ডিম পরিহার করে ফলমূল খেতে হয়। বড় পুত্র আদ্যশ্রাদ্ধের অধিকারী হলেও শ্রাদ্ধের দিন প্রত্যেক পুত্রকেই কিছু না কিছু দান করতে হয়। তবে সে দান যদি শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য হয় তবে শ্রাদ্ধের উদ্দেশ্য সফল হবে না। অনেক সময় দেখা যায়, লোক দেখানোর জন্য অনেকে প্রচুর টাকাপয়সা খরচ করে শ্রাদ্ধ করে। এ রকম শ্রাদ্ধ ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অনেক সময় টাকাপয়সা খরচ করার ভয়ে শ্রাদ্ধ পালনে অনীহা দেখা যায় বা মনে অশ্রদ্ধা আসে। এ রকম করা যাবে না। শাস্ত্রে ছয়, আট, ষোল দানের কথা উল্লেখ আছে। তবে অশ্রদ্ধার সাথে ষোলদান করলেও শ্রাদ্ধ হবে না। কিন্তু শ্রদ্ধার সাথে ছয় দান করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে। তাই ধীরেন্দ্র বাবুর পুত্ররা শ্রদ্ধার সাথে ধীরেন্দ্র বাবুর উদ্দেশ্যে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা, বিছানা উৎসর্গ করেছে। ধীরেন্দ্র বাবুর পুত্রদের আদ্যশ্রাদ্ধ কার্যাবলির সর্বদিকেই ছিল শ্রদ্ধার এক অপূর্ব নিদর্শন।
সুতরাং বলা যায়, আদ্যশ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মাধ্যমে ধীরেন্দ্র বাবুর পুত্ররা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে।