1 Answers

উদ্দীপকে যে সভ্যতার ইঙ্গিত রয়েছে তা হচ্ছে সিন্ধু সভ্যতা। ভাস্কর্য শিল্পে উক্ত সভ্যতার যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

ভাস্কর্য শিল্পে সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের অতুলনীয় দক্ষতা ছিল। সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া পাথরে খোদিত ভাস্কর্যের সংখ্যা কম হলেও সেগুলোর শৈল্পিক মান ও কারিগরি দক্ষতা ছিল উল্লেখ করার মতো। এ যুগে মোট ১৩টি ভাস্কর্য মূর্তি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১টি শ্মশ্রুমণ্ডিত এবং আলখাল্লা ধরনের পোশাক পরা। ধারণা করা হয়, এগুলো কোনো পুরোহিত শাসকের হয়ে থাকবে। চুনাপাথরের তৈরি একটি মূর্তির মাথা পাওয়া গেছে, যাতে পাথর কেটে চমৎকার ঢেউ খেলানো চুল তৈরি করা হয়েছে। এ ভাস্কর্যের ঠোঁট আর কানের গড়ন ছিল নিখুঁত।

মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে নৃত্যরত নারীমূর্তি, যার বাম হাতের পুরোটাই ছিল বালা দিয়ে ঢাকা। মূর্তিটির চোখ, নাক, আর কোঁকড়ানো চুল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া মাটির তৈরি ছোট ছোট মানুষ এবং পশুমূর্তিও পাওয়া গেছে। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম হলো বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০০ সিল।

উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা নগর পরিকল্পনার পাশাপাশি ভাস্কর্য শিল্পেও অসামান্য দক্ষ ছিল।

5 views

Related Questions

মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজ বনভূমির মাঝে দৃষ্টিনন্দন হ্রদ আর লাল ইটের তৈরি ইমারত ক্যাম্পাসকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে। পাশাপাশি এ- ক্যাম্পাস ‘সংস্কৃতির রাজধানী' নামেও পরিচিত। এ ছাড়া প্রতি বছর শীতকাল এলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলো অতিথি পাখিতে পূর্ণ হয়ে যায়। তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিথি পাখির ক্যাম্পাস হিসেবেও অনেকে চেনেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত কয়েকটি ভাস্কর্য এ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সবুজের মাঝে কংক্রিট বা ব্রোঞ্জে তৈরি ভাস্কর্যগুলো দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি হয়ে । এসব ভাস্কর্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পৌছে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনাকে স্মরণ রাখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক'। যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যু – এই শপথে আবদ্ধ থেকে লড়াই করেন। যে অকুতোভয় বীর, তিনিই সংশপ্তক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্থাপিত এই ভাস্কর্যটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত, এক পা হারিয়েও রাইফেল হাতে লড়ে যাওয়া দেশমাতৃকার এক বীরসন্তানকে। ভাস্কর্যটির নির্মাতা শিল্পী হামিদুজ্জামান খান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্রোঞ্জের অবয়বে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। আজকের প্রজন্মের কাছে ভাস্কর্যটি যে-কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের অনিঃশেষ প্রেরণা। হিসেবে কাজ করে।
1 Answers 6 Views