1 Answers
'স্বাধীন গৌড় রাজ্যের রাজা শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলায় যে অরাজকতার সৃষ্টি হয় তার ফলে প্রাচীন বাংলার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ছিল না'- কথাটি যথার্থ।
৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে গৌড় অধিপতি শশাংক মৃত্যুবরণ করার পর বাংলার ইতিহাসে এক দুর্যোগপূর্ণ যুগের সূচনা হয়। গৌড়রাজ শশাংকের কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। একদিকে হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মনের হাতে গৌড় রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, অন্যদিকে ভূ-স্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার প্রত্যাশায় একে অন্যের সঙ্গে সংঘাতে মেতে ওঠে। কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো তখন কেউ ছিল না। এর ফলে সৃষ্ট অরাজকতায় প্রাচীন বাংলার মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। এ অরাজকতার সময়কালকে পাল তাম্রশাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে। পুকুরের বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকেই বলে 'মাৎস্যন্যায়'। এসময় বাংলার সবল অধিপতিরা ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করছিল। এ অরাজকতার যুগ একশত বছর স্থায়ী হয়েছিল।
উপরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, স্বাধীন গৌড় রাজ্যের শাসক শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলায় এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আর সেই অরাজকতার ফলে প্রাচীন বাংলার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিনষ্ট হয়েছিল।