1 Answers
উদ্দীপকে আর্য, বৈদিক, বৌদ্ধ ও পৌরাণিক ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমি মনে করি, প্রাচীন বাংলায় এ ধর্মগুলো ছাড়াও আরও ধর্ম ও সম্প্রদায় ছিল।
পৌরাণিক পূজা-পার্বণের রীতি-নীতি ও ক্রিয়াকলাপ হতে যে সব ধর্মসম্প্রদায়ের উদ্ভব হয় তাদের মধ্যে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীরা সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। পাল-চন্দ্র-কম্বোজ যুগে বৈষ্ণব ধর্মের উন্নতির প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন লিপিমালায়। পাল রাজাদের অনেকে বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক হলেও অন্য ধর্মের ন্যায় বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সেন রাজাদের পূর্বপুরুষেরা শিবের পূজা করলেও রাজা লক্ষণ সেন ছিলেন 'পরমবৈষ্ণব'। তার সময় হতেই রাজকীয় অনুষ্ঠানের শুরুতে শিবের পরিবর্তে বিষ্ণুর স্তবের প্রচলন হয়।
খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে জৈন ধর্মের প্রবর্তক বর্ধমান মহাবীর রাঢ় দেশে এসেছিলেন। সে সময় সেখানকার লোকেরা জৈন ধর্মমত গ্রহণ না করলেও পরবর্তী সময়ে বাংলায় এ ধর্ম ছড়িয়ে পড়ে। খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতকে নাটোরের পাহাড়পুরে একটি জৈন বিহার ছিল। সপ্তম শতকে উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে জৈনদের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রাচীন বাংলায় আর্য, বৈদিক, বৌদ্ধ ও পৌরাণিক ধর্মের পাশাপাশি বৈষ্ণব সম্প্রদায় এবং জৈন ধর্মমতের প্রচলন ছিল।