1 Answers

ঘটনা-২-এর কর্মকাণ্ড প্রাচীন বাংলার সেন বংশের শাসনকে নির্দেশ করে। শিক্ষা ও সাহিত্যের বিকাশে এ বংশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সেনদের আদি নিবাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক অঞ্চলে। সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেন বাংলায় এসে পাল রাজা রামপালের অধীনে সামন্ত রাজা হিসেবে কাজ শুরু করেন। সামন্ত বিদ্রোহ শুরু হলে পাল সাম্রাজ্য ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে হেমন্ত সেন একটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন। সেন শাসনামল ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়কালের মধ্যে সেন বংশের অনেক শাসক বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সেন শাসক বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তিনি বেদ, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন। বল্লাল সেনের একটি বিরাট গ্রন্থাগার ছিল। কবি বা লেখক হিসেবে সংস্কৃত সাহিত্যে তার অবদান অপরিসীম। তিনি দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। বল্লাল সেনের পুত্র লক্ষণ সেনও সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। তিনি পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন। লক্ষণ সেন রচিত কয়েকটি শ্লোকও পাওয়া গেছে। তার রাজসভায় বহু পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তির সমাবেশ ঘটেছিল। তার রাজত্বকালে শ্রীধরদাস সদুক্তিকর্ণামৃত ও জয়দেব গীতগোবিন্দ কাব্য রচনা করেন। সাহিত্যের পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও সেন আমলে বাংলা উন্নতির শিখরে পৌছেছিল।

উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সেন বংশের শাসকেরা বাংলার শিক্ষা ও সাহিত্যের বিকাশে অবদান রেখেছেন।

6 views

Related Questions

যুদ্ধ, নিপীড়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বাঁচতে আজ সারা বিশ্বে ৮ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। বাস্তুচ্যুত মানুষের এ সংখ্যাা বাংলাদেশের জনসংখ্যা র প্রায় অর্ধেক । সারা বিশ্বের বাস্তুচ্যুতির প্রধান পাঁচটি উৎসদেশের একটি হচে।ছ মায়নমার। সেখান থেকে ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় দেয়। এই শরণার্থীরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়: কিনুত তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা – এসব কিছুই সম্ভব নয় আন্তর্জাতিক মহলের একট সার্বিক উদ্যোগ ছাড়া। তার পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের সুরক্সা, সহায়তা ও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নোয়াখালীর ভাসানচরে তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা একটি স্বতন্ত্র আবাসস্থল নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেক শরণার্থীর রয়েছে ব্যক্তিগত দুঃখ –কষ্ট , বঞ্চনা ও যন্ত্রণার ইতিহাস। বাংলাদেশে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গা নিয়মিত সংগ্রাম করে যাচ্ছে মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে। তারা আশাবাদী, একদিন তারা নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। (Translate to English)
1 Answers 8 Views