1 Answers
হৃদিতা পরবর্তীতে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ঘুরতে যায়। সেখানে অবস্থিত পুণ্ড ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড অন্যতম। বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে এ জাতির উল্লেখ আছে। পুণ্ড নামে একটি জাতি এ জনপদে বাস করত, যাদের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৯-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড রাজ্য স্বাধীন সত্তা হারায়। সমৃদ্ধি বাড়ার সাথে সাথে পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে তা পুণ্ড্রবর্ধনে রূপান্তরিত হয়। সে সময় পুণ্ড্রবর্ধন বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা ধারণা করে থাকেন। সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুণ্ডনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসায়- বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, হৃদিতা তার পিতার সাথে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ঘুরতে যায়। আর উপরের আলোচনায় বগুড়ার মহাস্থানগড়কে প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ পুণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, হৃদিতা পরবর্তীতে বগুড়ার মহাস্থানগড় বা পুণ্ড জনপদে ঘুরতে যায়, যা ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।