1 Answers
"প্রাচীন বাংলা শুধু চিত্রশিল্পেই সমৃদ্ধ ছিল না, সে যুগের সাহিত্য কর্মও ছিল বিস্ময়কর"- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।
প্রাচীন বাংলা স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং চিত্রশিল্পে যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছিল। সে সময়ের মানুষ শিল্পের সাথে সাথে সাহিত্যেও পারদর্শিতা অর্জন করেছিল। প্রাচীন বাংলার লেখকরা শৌরসেনী অপভ্রংশ এবং মাগধী অপভ্রংশ উভয় ভাষা ব্যবহার জানতেন। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা এ দুভাষাতেই পদ, দোহা ও গীত রচনা করতে পারতেন। তাদের এ রচনাগুলোকে 'চর্যাপদ' বলা হয়। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলোর মূল্য অপরিসীম। এ চর্যাপদগুলোর মধ্যেই বাংলা সাহিত্যের জন্ম। তাছাড়া সহজিয়া গান, বাউল গান ও বৈষ্ণব পদাবলীর উৎপত্তিও প্রাচীন বাংলার সাহিত্যকর্মের সফলতা নির্দেশ করে।
প্রাচীন বাংলায় বল্লাল সেন, লক্ষণ সেনের মতো শাসকরাও সাহিত্য রচনায় পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। বল্লাল সেন 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুইটি গ্রন্থ রচনা করেন। লক্ষণ সেন তার পিতা বল্লাল সেনের অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' সমাপ্ত করেছিলেন। তার রচিত কয়েকটি শ্লোকও পাওয়া গেছে।
উপরের আলোচনার শেষে বলা যায়, প্রাচীন বাংলা শুধু চিত্রশিল্পেই নয়, সাহিত্যকর্মেও বিস্ময়কর অবদান রেখেছিল।