1 Answers
হ্যাঁ, উদ্দীপকে জনাব 'ক' এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদক্ষেপ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য যথার্থ ছিল- প্রশ্নের মন্তব্যটির সাথে আমি একমত।
উদ্দীপকের তথ্যচিত্রে জনাব 'ক' এর উল্লিখিত শাসনামলের দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইঙ্গিতপূর্ণ দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।। মুক্তিযুদ্ধের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ যখন ব্যস্ত, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও তেলের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং বন্যায় দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্যোৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া আরও বিভিন্ন কারণ যেমন- দুর্নীতি, মজুদদারি প্রভৃতি কারণে এদেশের মানুষ দারুণভাবে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর সরকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি ও শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দল নিয়ে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করে। দ্বিতীয় বিপ্লব খ্যাত এ উদ্যোগ গণমানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গৃহীত হয়েছিল। আবার, আলোচ্য তৃতীয় পদক্ষেপটিও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য যথার্থ ছিল। বঙ্গবন্ধু বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলভাবে ধরে রাখতে "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়" ঘোষণা করেন, ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৪০টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করে দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বন্দরকে মাইনমুক্ত করাসহ নানাভাবে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে। অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশও খাদ্যদ্রব্য ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসে যা সদ্য স্বাধীন দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখে। এভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি সদ্য স্বাধীন দেশকে বঙ্গবন্ধু দেশি-বিদেশি অসংখ্য ষড়যন্ত্রের মাঝেও এগিয়ে নিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। এটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য সেই সময়ের দাবি ছিল। আর তাই উক্ত পদক্ষেপদ্বয় যথার্থ ছিল এবং এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।