1 Answers

উদ্দীপকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধের যথার্থ প্রতিচ্ছবি নয়। 

কারণ উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি ছাড়াও 'বই পড়া' প্রবন্ধে আরও কিছু বিষয় লক্ষ করা যায়। স্বশিক্ষিত প্রাণবান মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। স্কুল-কলেজে শিক্ষাদানের পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দেয় না। বরং এতে তাদের স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠার শক্তি নষ্ট হয়। নোট গলাধঃকরণ করে পরীক্ষায় পাস করার যে বিদ্যা তা প্রকৃত বিদ্যা নয়। কারণ পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়। শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসার ঘটাতে হয়, যা লাইব্রেরিতে বই পড়ার মধ্য -দিয়ে অর্জন করা যায়।

'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক স্বশিক্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে লাইব্রেরির গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উদ্দীপকেও বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বই পড়ার জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়নি। বই মানুষের মনের চোখ খুলে দেয়। 'বই পড়া' প্রবন্ধের এ ধরনের মতামতের সঙ্গে উদ্দীপকের দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের তুলনায় মূক, বধির ও অন্ধ হেলেন কেলারের অধিক বই পড়ে জগতে বিখ্যাত হওয়ার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও 'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক আরও কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন, যেগুলো উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।

'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার উপযোগিতা ও পাঠকের মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এখানে পাঠে অনভ্যাসের কারণ হিসেবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা আমাদেরকে অর্থ উপার্জন করতে শেখায় কিন্তু সুপ্ত হৃদয়বৃত্তিকে প্রস্ফুটিত করে না। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। প্রাবন্ধিক শিক্ষিত ও স্বশিক্ষিতের মধ্যে যে পার্থক্য এবং শিক্ষার যে গলদ এই প্রবন্ধে নির্দেশ করেছেন সেগুলোও উদ্দীপকে নেই। এসব কারণে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বই পড়া' প্রবন্ধের যথার্থ প্রতিচ্ছবি নয়।

5 views

Related Questions