1 Answers
উদ্দীপকটি 'সাহিত্যের রূপ ও রীতি' প্রবন্ধের পুরো বিষয়কে ধারণ করে না। কারণ উদ্দীপকের বিষয় ছাড়াও প্রবন্ধে অন্যান্য বিষয় আলোচিত হয়েছে।
সাহিত্য এক ধরনের আর্ট বা শিল্প। সাহিত্যের মূল উপাদান মানবজীবন। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা এবং বহু বিচিত্র কামনা-বাসনাকেই সাহিত্যস্রষ্টা তার সৃষ্টির মধ্যে প্রতিফলিত করেন। কারণ সাহিত্য রচয়িতা সমাজেরই মানুষ। মহৎ সাহিত্যে চিরন্তন মনুষ্যত্বের রূপটি প্রতিফলিত হয়।
উদ্দীপকে কবিতার বৈশিষ্ট্য এবং সাহিত্যের মূলতত্ত্বের বিষয় নির্দেশিত হয়েছে। এখানে সহিত্যের সত্যকে জীবনসত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় কিনা সেই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সাহিত্যে চতুরতার যে স্থান নেই এবং কবি যে চিরদিন দুঃসাহসের যাত্রী তা বলা হয়েছে। আর সাহিত্য যে নানাভাবে মাটি ও মানুষের কথা বলে স্বদেশপ্রেমের উৎসারণ ঘটায় তা তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়গুলো 'সাহিত্যের রূপ ও রীতি' প্রবন্ধের সাহিত্য আলোচনা এবং সাহিত্যের তত্ত্বের দিককে নির্দেশ করে। উদ্দীপকে সৎ-কবিতা, সার্থক কবি সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছে তা আলোচ্য প্রবন্ধের কবিতা সম্পর্কে আলোচনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এখানে কবিতার দুটি প্রধান শাখা- গদ্য-১৪ মহাকাব্য ও গীতিকবিতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া প্রবন্ধের অন্যান্য বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি ।
'সাহিত্যের রূপ ও রীতি' প্রবন্ধে লেখক কবিতা, গীতিকবিতা, মহাকাব্য, নাটক, নাটকের শ্রেণিবিভাগ, নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, উপন্যাস প্রভৃতি বিষয় আলোচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে কবিতা, গীতিকবিতা ও মহাকাব্য তথা কবিতার আলোচনা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই সঙ্গে সাহিত্যের তাত্ত্বিক। বিষয়ে সাহিত্য সত্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, উদ্দীপকটি প্রবন্ধের পুরো বিষয়কে ধারণ করে না।