1 Answers
হ্যাঁ, উদ্দীপকের কবিতাংশে 'সাহিত্যের রূপ ও রীতি' প্রবন্ধে আলোচিত বাংলা কবিতার বিশেষ ধারার প্রতিফলন ঘটেছে।
সাহিত্য মানবজীবনের গূঢ় সত্য উন্মোচন করে। সাহিত্যের পরিধি বিশাল ও বিস্তৃত। মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়। কখনো কখনো সাহিত্য হয়ে ওঠে প্রতিবাদের তীব্র হাতিয়ার।
উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের কবিতার বিশেষ দুটি ধারার একটি ধারা প্রতিফলিত হয়েছে। এ ধারাটির প্রবর্তক কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি 'বিদ্রোহী' কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে এ ধারার প্রবর্তন করেন এবং নিজে বিদ্রোহী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 'সাহিত্যের রূপ ও রীতি' প্রবন্ধে কবিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক এ ধারার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, 'নজরুলের কবিতায় যে উদ্দীপ্ত কণ্ঠস্বর ও দৃপ্ত ভাবের দেখা মেলে তা পূর্বে বাংলা কাব্যে ছিল না।' উদ্দীপকে এ ধারার কবিতার অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে কবিতার বিশেষ দুটি ধারার একটি বিদ্রোহী চেতনার ধারা। এটি আধুনিক বাংলা কাব্যের অন্যতম ধারা। কবিতা যে প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে এবং মানুষকে জাগ্রত করে অন্যায়ের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ করেতে পারে তা এ ধারার মাধ্যমেই প্রথম রূপ লাভ করে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হবেন না। তিনি সেই দিন শান্ত হবেন যেদিন অত্যাচারীর হাতে কেউ নির্যাতিত হবে না। তাদের খড়গ কৃপাণ ভীম রণভূমে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। এভাবে উদ্দীপকের কবিতাংশে 'সাহিত্যের রূপ ও রীতি' প্রবন্ধে আলোচিত বাংলা কবিতার বিশেষ ধারার প্রতিফলন ঘটেছে।