1 Answers
"উদ্দীপক-২ এ 'মানুষ' কবিতার কবির প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। কারণ তারা একই স্রষ্টার সৃষ্টি এবং একই চন্দ্র-সূর্যের জোছনা ও উত্তাপ নিয়ে বাঁচে তাদের জন্ম-মৃত্যুর প্রক্রিয়াও এক ও অভিন্ন। কাজেই ধর্ম, বর্ণ, অর্থ-বিত্ত দিয়ে কাউকে বিচার করা উচিত নয়।
উদ্দীপক-২-এ মাদার তেরেসার অসামান্য মানবিকতার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে মাদার তেরেসার মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর মানবীয় দিকটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তিনি ধর্ম-বর্ণ, উঁচু-নিচু, কালো-সাদার মধ্যে কোনোরূপ পার্থক্য না করে মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। উদ্দীপকে মাদার তেরেসার মানবিকতার যে প্রতিফলন ঘটেছে তা 'মানুষ' কবিতার কবিও প্রত্যাশা করেছেন। তিনি সাম্যবাদের দৃষ্টিতে সব মানুষকে সমান হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। সেখানে ধর্ম-বর্ণ কিংবা অর্থ-বিত্ত দিয়ে মানুষকে পার্থক্য করা হবে না। প্রত্যেকেই মানুষ পরিচয়ে প্রত্যেকের কাছে মর্যাদা লাভ করবে।
'মানুষ' কবিতায় একজন ক্ষুধার্ত পথিক মন্দিরের পুরোহিত এবং মসজিদের মোল্লার কাছে ক্ষুধার অন্ন প্রার্থনা করে প্রত্যাখ্যাত ও বিতাড়িত হয়েছে। তারা খাবার নিয়ে মসজিদ-মন্দিরে তালা লাগিয়েছে। কবি তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে এর প্রতিকারের জন্য হাতুড়ি, শাবল চালাতে চেঙ্গিস, গজনি মামুদ, কালাপাহাড়কে স্মরণ করেছেন। কবির এ প্রত্যাশা মূলত মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, যা উদ্দীপকে মাদার তেরেসার কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হয়েছে। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।