1 Answers
"উদ্দীপকের আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক 'মমতাদি' গল্পের কথকের প্রত্যাশিত চরিত্রের বিপরীত"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সমাজে সব মানুষের সামাজিক ও অর্থনেতিক অবস্থান সমান নয়। কেউ বেশি ভালোভাবে জীবিকা নির্বাহ করে, আবার কেউ অত্যন্ত দুঃখ-কষ্টের সাথে দিনাতিপাত করে। কিন্তু এর কারণে একেকজনকে তাদের সাথে বৈষম্যপূর্ণ আচরণ উচিত নয়। প্রত্যেকেই মানুষ, তাই প্রত্যেকেই সমান সম্মান পাওয়ার যোগ্য।
উদ্দীপকের আশ্রকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক রাবেয়ার প্রতি আন্তরিক আচরণ করে না। রাবেয়া অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং নিজের কাজের প্রতি 'যত্নবান। আশ্রয়কেন্দ্রের বাচ্চাদের সাথেও তার স্নেহসুলভ সম্পর্ক। কিন্তু অসুস্থতার কারণে একদিন কাজে আসতে না পারায় আশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক তার সাথে রূঢ় আচরণ করে। তাকে অনুপস্থিতির জন্য তিরস্কার করে। রাবেয়ার প্রতি আন্তরিকতার অভাব থেকেই সে এমন কাজ করেছে। 'মমতাদি' গল্পে মমতাদি গল্পকথকের বাড়িতে কাজ করত। কাজের লোক হলেও বাড়ির মানুষ তার প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক ছিল। গল্পকথকের মা ইচ্ছে করে তার বেতন বেশি ধার্য করেন। মমতাদির কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রয়োজন কিনা তা অত্যন্ত কোমলভাবে জিজ্ঞাসা করেন গল্পকথকের মা। পরিবারের কেউই তার সাথে রূঢ় আচরণ করে না।
উদ্দীপকের আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক রাবেয়ার অসুস্থতার কারণে একদিনের অনুপস্থিতিতে তিরস্কার করে, যা কখনই কাম্য নয়। অন্যদিকে 'মমতাদি' গল্পে স্কুলপড়ুয়া ছেলেটির বাড়ির সবাই মমতাদিকে অনেক ভালোবাসত এবং তার প্রতি আন্তরিক ছিল। কিন্তু উদ্দীপকের তত্ত্বাবধায়কের ব্যবহার গল্পকথকের কখনই প্রত্যাশিত নয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক 'মমতাদি' গল্পের কথকের প্রত্যাশিত চরিত্রের বিপরীত।