1 Answers
না, উদ্দীপকের ব্রজবাবুকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায়ের প্রতিনিধি বলা যায় না।
তৎকালীন হিন্দু সমাজে জাতপাতের ঘৃণ্য রূপ প্রবলভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। শ্রেণিবৈষম্য মানুষকে মানবিকতা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষরা সাধারণ মানুষের প্রতি নির্দয় আচরণ করত।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায় কাঙালীর সঙ্গে নির্দয় আচরণ করেছে। কাঙালী তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য মায়ের মৃত্যুর পর কাঠের ব্যবস্থা করতে জমিদারের কাছারি বাড়িতে যায়। কাঙালীর মুখে মায়ের মৃত্যুর কথা শুনে গোমস্তা অধর রায় অশৌচের ভয়ে তাকে বারান্দা থেকে নিচে নেমে দাঁড়াতে বলে। 'কি জাতের ছেলে তুই' বলে অপমান করে। অধর রায়ের এই আচরণ মানবিকতাশূন্য। অন্যদিকে উদ্দীপকে ব্রজবাবু ছিদাম কাহারের লাশের সৎকারের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাতে মানবতাহীন মানসিকতা প্রকাশ পায়নি।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অভাগীর মুখাগ্নির জন্য বেলগাছটি কাটতে চাইলে দারোয়ান রসিক দুলেকে মারধর করেছে। এ কথা শুনে অধর রায় 'হারামজাদা খাজনা দেয়নি বুঝি' বলে শাসিয়েছে। কাঙালীকে সে 'মাকে পোড়াবি ত গাছের দাম পাঁচ টাকা আগে। পারবি?' বলে তিরস্কার করেছে। উদ্দীপকের ব্রজবাবু তা করেননি। তিনি লাশের সৎকারের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এসব দিক বিচারে উদ্দীপকের ব্রজবাবুকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের গোমস্তা অধর রায়ের প্রতিনিধি বলা যায় না।