1 Answers
উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও গল্পের মূল বিষয়টি অনুপস্থিত। মন্তব্যটি যথার্থ।
এই পৃথিবীতে সব মানুষ সমান। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে বিভেদের দেয়াল তুলে রাখে। এই বৈষম্যের নির্মমতা মানব সমাজে এমনভাবে জেঁকে বসেছে যে মানুষ প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে এক সাপুড়ের সাপের দংশনে আহত হওয়ার কথা প্রকাশ পেয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে অবৈজ্ঞানিকভাবে ঝাড়ফুঁক ও দেব-দেবীর দোহাই দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করার কথা। কিন্তু ওঝারা শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকের এই অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাপদ্ধতির দিকটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের কবিরাজি চিকিৎসা ও টোটকা চিকিৎসার বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেয়। যেখানে কাঙালী তার মায়ের চিকিৎসার জন্য কবিরাজের কাছ থেকে বড়ি নিয়ে আসে এবং প্রতিবেশীরা তাদের জানা টোটকা চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা করে। কিন্তু এই বিষয়টি আলোচ্য গল্পের মূল বিষয় নয়। আলোচ্য গল্পের মূল বিষয় হলো সামন্তবাদের নির্মম রূপ এবং নিচু শ্রেণির হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে একদিকে প্রকাশ পেয়েছে অধর রায়ের মতো ধনী জমিদার গোমস্তাদের নির্মমতা-নির্দয়তা, অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে কাঙালী-অভাগীদের মতো নিচু শ্রেণির সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ। এছাড়াও প্রকাশ পেয়েছে বর্ণবৈষম্য, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে কেবল আলোচ্য গল্পে প্রকাশিত চিকিৎসাব্যবস্থার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।