1 Answers

নিষ্ঠুরতা এবং কুলগর্বে উদ্দীপকের তর্করত্ন 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অধর রায়ের সার্থক প্রতিনিধি।

এক সময় বাঙালি হিন্দু সমাজে জাতবৈষম্য প্রবল আকার ধারণ করেছিল। জাতভেদের কারণে মানবতা বিভাজিত হয়ে পড়েছিল। উঁচু জাতের লোকেরা নীচ জাতের লোকদের ঘৃণা করত। তারা পারস্পরিক স্পর্শকেও অপবিত্র মনে করত।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে এই অস্পৃশ্যতার চিত্র পাই গোমস্তা অধর রায়ের আচরণে। কাঙালী দুলের ছেলে বলে সে যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখানে গোবরজল ছিটিয়ে দিতে বলে সে। এখানেই শেষ নয়, দরিদ্র কাঙালীকে সামান্য একটা গাছ চাইতে এসে মার খেয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। উদ্দীপকের গফুরও ব্রাহ্মণ তর্করত্নের দ্বারা অস্পৃশ্যতার শিকার হয়েছে। ধনী ব্রাহ্মণ তর্করত্নের কাছে সামান্য খড় চেয়ে সে ব্যর্থ হয়েছে। গফুরের দুঃখে তর্করত্নের হৃদয় গলেনি, বরং তার নিষ্ঠুরতাই এতে প্রবলভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

তর্করত্ন ও অধর রায় উভয়ই ধনী, নিষ্ঠুর ও কুলগর্বে গর্বিত। এ কারণেই গফুর ও কাঙালীর মতো দরিদ্র-অসহায় মানুষেরা তাদের দ্বারা অবহেলিত-অত্যাচারিত হয়। এ দিক থেকে উদ্দীপকের তর্করত্ন 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অধর রায়ের সার্থক প্রতিনিধি।

4 views

Related Questions