1 Answers
মানবিক ও শ্রেণিবৈষম্যহীন চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষ মানুষেরই জন্য, জীবন জীবনেরই জন্য। কিন্তু মানবিকতার এই মূলমন্ত্র বর্তমান সমাজ সভ্যতায় খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না। অনেকে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে রাখে, আবার অনেকে কোনো ভেদাভেদ স্বীকার করেন না।
উদ্দীপকে মানবিকতার উজ্জ্বল নিদর্শন দেখা যায় রহিম চৌধুরীর মাঝে। তিনি অনেক ধন-সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। নিজের মেয়ের বিয়েতে তিনি এলাকার আপামর জনসাধারণকে নিমন্ত্রণ করেন। সেখানে জাতভেদ বা শ্রেণিভেদ কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। এই চেতনাটি 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের উপস্থাপিত জাত-পাতের ভেদাভেদের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য গল্পে বর্ণিত হয়েছে তৎকালীন হিন্দু সমাজে বর্ণ-বৈষম্য, তথাকথিত নীচ বর্ণের মানুষদের উপর জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার ইত্যাদি। এই জাতপ্রথার বলি হয়েই কাঙালীর মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি। নীচ জাতের ছেলে বলে কাঙালীকে অবহেলা, অপমান সহ্য করতে হয়েছে। মায়ের মুখাগ্নি করার জন্য নিজের বাড়ির আঙ্গিনার গাছ কাটারও অনুমতি পায়নি ব্রাহ্মণ জমিদারের কাছ থেকে। সমাজের এই বর্ণভেদ, শ্রেণিভেদ চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।